সোনাগাছি জুড়ে হাহাকার, ‘সিসিটিভি হটাও, বাবুদের ইজ্জত বাঁচাও’
1 min read
নিজস্ব প্রতিনিধি: শীতের সকালে কোথায় লেপ কম্বলের নীচে বাবুদের সুখ দেবেন তাঁরা, তা না চলে এসেছেন রাস্তায়। শ্লোগানে শ্লোগানে গরম করে দিচ্ছেন এলাকা। ‘সিসিটিভি(CCTV) হঠাও, বাবুদের ইজ্জত বাঁচাও’, এমনই শ্লোগান(Slogan) উঠেছে কলকাতার(Kolkata) সোনাগাছিতে(Sonagachi)। রীতিমত আন্দোলন শুরু হয়ে গিয়েছে সেখানে। আর সেই আন্দোলনে বেশ বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন শহরের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশের(Police) আধিকারিকেরা। সোনাগাছির যৌনকর্মীদের বিরোধিতায় ধাক্কা খাচ্ছে শহরের নিরাপত্তার স্বার্থে সিসিটিভি বসানোর কাজও। রাস্তার আন্দোলনে কাজ না হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও ইঙ্গিত দিয়ে দিয়েছেন সোনাগাছির যৌনকর্মীরা।
ঠিক কী হয়েছে? কলকাতা শহরের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় ১০ হাজার সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। সেই সিদ্ধান্তের জেরেই শহরের বুকে সিসিটিভি লাগানোর কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। এই নিয়ে শহরের কোথাও কোনও আপত্তি ওঠেনি বা ঝামেলাও হয়নি। কিন্তু সমস্যা হয়েছে সোনাগাছিতে। মানে উত্তর কলকাতার বড়তলা থানা এলাকায় থাকা এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লীতে। ওই এলাকায় বসবাস করা ও Flying যৌনকর্মী তথা Sex Worker’রা দাবি তুলেছেন সোনাগাছিতে কোনওমতেই সিসিটিভি বসানো যাবে না। কেননা তাতে তাঁদের খদ্দের বা বাবুদের জীবনের গোপনীয়তা নষ্ট হবে। এমনকি যারা সেখানে যৌনকর্মী হিসাবেও কাজ করেন তাঁদেরও গোপনীয়তা ধাক্কা খাবে। আর এই দুইয়ের ধাক্কা সরাসরি পড়বে তাঁদের রুটিরুজিতে। তাই কোনও ভাবেই সিসিটিভি বসানো যাবে না। যদিও এই আন্দোলনের জেরে এখনই পিছু হঠতে চাইছেন না শহরের আইনের শাসন কায়েম করা পুলিশের আধিকারিকেরা। বরঞ্চ তাঁরা ধৈর্য ও সময় নিয়ে সমস্যাটির মিটমাট করতে চাইছেন। এই বিষয়ে তাঁরা হাতিয়ার করতে চাইছেন সোনাগাছিতেই ঘটে যাওয়া বেশ কিছু অপরাধমূলক ঘটনাকেই।
যেমন কয়েকমাস আগে এক যৌনকর্মী খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে শুধু এলাকায় সিসিটিভি না থাকার জন্যই খুনীকে চিহ্নিতই করা পারছহিল না পুলিশ। শেষে খুন হওয়া যৌনকর্মীর মোবাইলের ১৭০০টি কল ডাম্প করে খুনিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন তাঁরা। বিহার থেকে তাকে পাকড়াও করেও আনেন তাঁরা। ফের বড় কোনও অপরাধ যদি সোনাগাছিতে ঘটে, তখন খুনিকে ধরতে সমস্যা হতে পারে এখন যদি সিসিটিভি না লাগানো হয়। তাই যৌনকর্মীদের গোপনীয়তা বজায় রেখেই রাস্তায় সিসিটিভির ক্যামেরা বসাতে চাইছে পুলিশ। বড়তলা থানার সোনাগাছির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে বসছে মোট ৩০টি সিসিটিভির ক্যামেরা। সোনাগাছি অঞ্চলের অবিনাশ কবিরাজ লেন, ইমাম বক্স লেন, গরানহাটা সহ প্রবেশ ও বেরনোর রাস্তায় ৩০টি জায়গা শনাক্ত করা হয়। সেখানেই বসানো হচ্ছে ৩০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। এতে অপরাধ আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। খালি যৌনকর্মীদের শ্লোগান এখন বন্ধ হলে তবেই কাজ শুরু হবে ক্যামেরা বসানোর।
