সাগর দত্ত মেডিক্যালে হামলার প্রতিবাদ, ফের কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি জুনিয়র ডাক্তারদের
1 min read
কলকাতা: ৪২ দিনের কর্মবিরতি ও ১১ দিনের ধর্নার পর আবারও কর্মবিরতিতে যাওয়ার পথে জুনিয়র ডাক্তাররা? সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে কর্মবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা করেছেন তাঁরা। আগামী সোমবার বিকেল পর্যন্ত রাজ্য সরকারকে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাগর দত্ত মেডিক্যালে চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় নিরাপত্তার দাবিতে পুজোর মুখে কর্মবিরতির পথে হাঁটার পরিকল্পনা করেছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। রাজ্য সরকারের প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য সোমবার বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে। পাশাপাশি কাল বিকেলে সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ থেকে মশাল মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তার দাবি পূরণ না হলে তাঁরা পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিছুক্ষণ আগেই জুনিয়র চিকিৎসকরা ঘোষণা করেন, ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে সারা রাজ্যজুড়ে তাঁরা কর্মবিরতি শুরু করবেন।
কিন্তু কেন ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেল? জুনিয়র চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ওই দিন সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানি রয়েছে। সেই শুনানির পরেই তাঁরা সারা রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেবেন।
কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিক্যালে রোগীমৃত্যুর অভিযোগে শুরু হয়েছিল তাণ্ডব। পুলিশ থাকা সত্ত্বেও ফিমেল মেডিসিন ওয়ার্ডে ঢুকে মহিলাদের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে মৃত রোগীর আত্মীয়দের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে গতকাল রাত থেকেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। পাশাপাশি নার্সরাও সুপারকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবিতে বারবার আশ্বাস পাওয়া গেলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া এই হামলা ফের সেই প্রশ্নকে সামনে এনেছে। শুধু আশ্বাস দিয়েই কি সমস্যার সমাধান? সুরক্ষা যে এখনও নিশ্চিত হয়নি, সাগর দত্তের ঘটনার মাধ্যমে তা প্রমাণিত হলো।
৯ অগাস্ট, আরজি কর মেডিক্যালে এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার পর পঞ্চাশ দিন কেটে গেছে। সেই ঘটনার বিচার এবং নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা বারবার বলেছেন, কর্মক্ষেত্রে তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠি, কালীঘাটে প্রায় ৫ ঘণ্টার বৈঠকেও সেই প্রশ্ন উঠেছিল।
মুখ্যমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলোর ভিতরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এমনকি, যে সাগর দত্ত মেডিক্যালে শুক্রবার তাণ্ডব চলল, সেখানেই ১৮ সেপ্টেম্বর পুলিশের একটি আউটপোস্টের উদ্বোধন হয়েছিল। কিন্তু তার ৯ দিনের মধ্যেই সেখানে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হামলার শিকার হলেন।
