Jun 15, 2026 12:56AM

UtkalBongo Store

Powered By UB Media

রোনাল্ডোর ধারেকাছে নেই কেউ! এমবাপের এমন মন্তব্যেই মেসির সঙ্গে শুরু হয় ঝামেলা

1 min read

ঝড় উঠতে চলেছে পিএসজির অন্দরমহলে

বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে। তবে যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। রোনাল্ডো বনাম মেসি দ্বৈরথ বিশ্বফুটবলে হাজির হয়েছে নতুন চেহারায়। যে ডুয়েলের নাম কিলিয়ান এমবাপে বনাম লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে যে ঠান্ডা লড়াই শুরু হয়েছে, তা এখনও বহাল তবিয়তে বিরাজমান। বলা হচ্ছে, সেই যুদ্ধে এখনই ইতি পড়ার কোনও সম্ভবনা নেই। বিশ্বকাপের সেই শৈত্য লড়াই আছড়ে পড়ছে পিএসজির অন্দরমহলে। আজ লড়াইয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ তো স্রেফ বোড়ের ঘোড়া। আসল লড়াই ভিতরে ভিতরে লিওনেল মেসি বনাম এমবাপে। বিশ্বকাপ ফাইনালে মাঠের মধ্যেই পরস্পর গোল করে একে অন্যের মুখের ওপর উদযাপন করে নিজেদের সম্পর্ক বেআব্রু করে তুলেছিলেন বিশ্বের সামনে। তারপরে একে একে ঘটনার স্রোত বয়েই চলেছে।
তারপরে বুয়েন্স আয়ার্সে বাস প্যারেডে মার্টিনেজকেই দেখা গিয়েছিল এমবাপের পুতুল হাতে সেলিব্রেশন করতে। তবে দুই ক্ষেত্রেই মার্টিনেজকেই থামাননি মেসি। যা নিয়ে প্রবল আলোচনার স্রোত বয়ে গিয়েছিল ফুটবল বিশ্বে।

তবে ঘটনা হল, মেসি নয়, এই ঝামেলার সূত্রপাত করেছিলেন কিলিয়ান এমবাপেই নিজেই। পিএসজির প্রাক্তন তারকা আবদৌ দিয়ালো গোটা ঘটনা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। বর্তমানে যিনি বুন্দেশলিগার লিপজিগে খেলেন। ডেইলি মেইল-কে তিনি বলে দিয়েছিলেন, মেসি বনাম রোনাল্ডো দ্বৈরথ নিয়ে এমবাপের মনের কথা। দিয়ালো ডেইলি মেইল-কে বলে দেন, ‘এমবাপের কাছে রোনাল্ডোই সবকিছু। মেসি বনাম রোনাল্ডো বিতর্কে এমবাপে একঘন্টা পর্তুগিজ তারকার হয়ে তর্ক করতে পারে। ওঁর কাছে ক্রিশ্চিয়ানো এমন একজন যাঁকে স্পর্শ করার ক্ষমতা কারোর নেই।’ এমবাপের সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ছবি ভাইরাল হয়েছিল, সেই ছবিতে ফরাসি সুপারস্টারকে দেখা যাচ্ছে বেডরুমের চারপাশে রোনাল্ডোর ছবি ভর্তি। শৈশব থেকেই রোনাল্ডোকে আদর্শ করে এগিয়েছেন এমবাপে।

তবে নিছক ফ্যান বয় নয়, মেসির সতীর্থ হয়েও আর্জেন্টিনীয়কে মনে প্রাণে মেনে নিতে পারেননি তিনি। গত অগাস্টেই মন্তেপিয়ারের বিরুদ্ধে যে ম্যাচে পিএসজি ৫-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল, সেই ম্যাচেই বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়ে যান এমবাপে।
মেসির কাছ থেকে ক্রস না পেয়েই সটান মহাতারকাকেই ধাক্কা দিয়ে বসেন এমবাপে। এত দুঃসাহস দেখে মেসিও প্রাথমিকভাবে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। মেসি সৌজন্যে খাতিরে এমবাপের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণই করে গিয়েছেন। তবে এমবাপে বারেবারেই অসম্মান করে গিয়েছেন মহাতারকাকে। নেইমারের সঙ্গেও এমবাপের পুরোনো শত্রুতা পেনাল্টি-টেকার হওয়ার বাসনা থেকে। এমনকি বিশ্বকাপের পর মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমবাপে পিএসজিকে তিন শর্ত দিয়েছে ক্লাবে থাকার জন্য। যে চুক্তির অন্যতম নেইমারের বিতাড়ন। Fichajes-এর প্রতিবেদন থেকেই সাম্প্রতিক আপডেটে জানা গিয়েছে,
এমবাপের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নেইমারকে মাত্র ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডেই বিক্রি করে দিতে চলেছে প্যারিসের ক্লাবটি।
ইতিমধ্যেই নেইমারকে নেওয়ার জন্য উত্‍সাহ প্রকাশ করেছে ইপিএলের তিন ক্লাব- নিউক্যাসল ইউনাইটেড, ম্যান সিটি এবং চেলসি।

এই বিতর্কের একদম সাম্প্রতিক সংযোজন মেসির পিএসজি সংবর্ধনায় এমবাপের গড়হাজির থাকা। লেন্সের কাছে হারের পরেই এমবাপে ক্লাবের কাছ থেকে ছুটি আদায় করে নিউইয়র্কে পাড়ি দিয়েছিলেন এনবিএ ম্যাচে হাজির থাকতে। সঙ্গী ছিলেন বন্ধু আচরাফ হাকিমি। বিশ্বকাপ জয়ের পর মেসির পিএসজি পদার্পণের মুহূর্তেই এমবাপের এই ছুটি চাওয়া ফুটবল বিশেষজ্ঞদের নজর এড়িয়ে যায়নি। সবথেকে বড় সমস্যায় পড়েছেন পিএসজি কোচ ক্রিস্টোফ গ্যালতিয়ের। তিনি দুই তারকার ইগো সামলাতে সরাসরি মুখ খুলেছেন। বলে দিয়েছেন, ‘কিলিয়ান ম্যাচের পরে মেসি এবং লিওনেল স্কালোনিকে অভিবাদন জানিয়েছিল। মেসি মোটেই এমবাপেকে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেনি। এই বিতর্ক থেকে লিওকে বাইরে রাখা হোক। সবকিছু গুলিয়ে ফেললে হবে না। আর্জেন্টিনীয় গোলকিপারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কিলিয়ানের মনোভাব দারুণ স্বচ্ছ। মেসিকে ম্যাচের পর শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের ক্লাস বুঝিয়ে দিয়েছে ও।’ তিনি ঝামেলা মেটাতে চাইলেও ঘটনা হল, ‘যা রটে তার কিছুটা তো বটেই’!

Bangla Plus HD

About Author

Copyright © All rights reserved. | UB Media
error: Content is protected !!
Shares
Hide picture