One Nation One Jobcard, সঙ্গে ২০০ দিনের কাজের প্রকল্প
1 min read
নিজস্ব প্রতিনিধি: ক্ষমতায় ফিরতে চাই আমজনতার আস্থা। চাই তাঁদের সমর্থনও। তাই ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের বাজেটের মধ্যে দিয়েই মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাইছে মোদি সরকার(Modi Government)। আর সেই বাজেট যেহেতু ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দ্বিতীয় মোদি সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট হতে চলেছে তাই সেখানেই গ্রামীণ ভারতের(Rural India) জন্য বড়সড় ঘোষণার পথে হাঁটতে পারেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ(Nirmala Sitaraman)।
অন্তত এমনটাই বিজেপি(BJP) সূত্রে জানা গিয়েছে। সেই সূত্রেই সামনে এসেছে দুটি বিষয়। এক, ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে বছরে নূন্যতম ২০০ দিন করা এবং দুই, সেই কাজ পাওয়ার জন্য One Nation One Jobcard ব্যবস্থা চালু করা। এই বিষয়টি সামনে আসতেই বেঁধেছে বিতর্ক। অনেকেই মনে করছেন এই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পকে রাজ্য সরকারের হাত থেকে কেড়ে নিতে চাইছে কেন্দ্র সরকার। সেই কারণেই এক দেশ এক জনকার্ডের পথে হাঁটা দিতে চাইছে মোদি সরকার।
এখন ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি প্রকল্পে কাজ পেতে হলে জবকার্ড থাকা বাধ্যতামূল্ক। আর সেও জবকার্ড ইস্যু করে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাংলার পাশাপাশি এই জবকার্ড নিয়ে অভিযোগ উঠছে দেশের প্রায় সব রাজ্য থেকেই। সেই অভিযোগ হল কোথাও জবকার্ডের জন্য ঘুষ নেওয়া হচ্ছে, কোথাও জবকার্ড করিয়তে দিয়ে মজুরি থেকে কাটমানি নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও ভুয়ো জবকার্ড তৈরি করে কাজের টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে, কোথাও আবার কোনও কাজ না করিয়েই টাকা তুলে নেওয়া হচ্ছে। আর প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এইসব দুর্নীতির পিছনে সেই সব রাজ্যের শাসক দলের নেতারা ও স্থানীয় সেই সব গ্রাম পঞ্চায়েতের মাতব্বররাই জড়িত। সেই কারণেই মোদি সরকার এখন চাইছে এই জবকার্ড ইস্যু করার বিষয়টি গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিবর্তে মহকুমা শাসকের হাতে তুলে দিতে। কেননা মহকুমা শাসকই হলেন ভারত সরকারের সর্বনিম্ন প্রতিভূ। সেই সঙ্গে ওই জবকার্ড যাতে দেশের যে কোনও রাজ্যে গৃহীত হয় সেই ব্যবস্থাও করা হবে। এতে সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। যদি হঠাত্ করে তাঁদের আয় বন্ধ হয়ে যায় বা ছাঁটাইয়ের শিকার হন, তাহলেও ভিন রাজ্যে যাতে ওই শ্রমিকদের কাজের হদিশ পেয়ে যান সেই জন্যই এই ব্যবস্থা করতে চায় মোদি সরকার।
জানা গিয়েছে, ১০০ দিনের জব কার্ডকে শ্রমমন্ত্রকের ই-শ্রম পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা করছে মোদি সরকার। সেক্ষেত্রে দু’টি সুবিধা হবে। এক, কারও নামে ইস্যু হওয়া জব কার্ডের বৈধতা অনায়াসে যাচাই করতে পারবে যে কোনও রাজ্য। পাশাপাশি নিজের গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কাজ না পেলে অন্যত্র আবেদন করা যাবে। তবে এর জন্য মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইনে সংশোধনী আনতে হবে। মনে করা হচ্ছে বাজেটে এই বিষয়ে ঘোষণা করে চলতি বছরেই এই বিষয়ে আইন প্রণয়ণের পথে হাঁটা দিতে পারে কেন্দ্র। সেই সময়েই ১০০ দিনের কাজের সময়সীমাকেও বাড়িয়ে বছরে নূন্যতম ২০০ দিন করার পথে হাঁতা দিতে চায় কেন্দ্র। মোদি সরকার প্রথম দিকে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পকে গুরুত্ব না দিলেও কোভিডকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে একমাত্র এই প্রকল্পটিই সফলভাবে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের চলনকে সক্রিয় রেখেছে। সেই কারণেই এবার আর্থিক মন্দা যাতে গ্রামীণ ভারতে প্রভাব ফেলতে না পারে তার জন্য আরও বেশি করে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পকে গুরুত্ব দিতে চাইছে মোদি সরকার।
