শ্যামল ঘোষ প্রয়াত, ময়দানে বাইচুংয়ের প্রথম কোচ ছিলেন তিনি
1 min read
নতুন বছরের শুরুতেই ময়দান হারাল এক কৃতি ফুটবলারকে। ইস্টবেঙ্গলের সোনার দলের অন্যতম সদস্য (Ex East Bengal Captain) ডিফেন্ডার শ্যামল ঘোষের (Shyamal Ghosh) জীবনাবসান (Passed away) হল। বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। রেখে গেলেন স্ত্রী, পুত্র ও এক নাতিকে। তিনি লাল হলুদের অধিনায়ক ছিলেন সত্তর দশকে। বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে হৃদরোগে প্রয়াত হন তিনি। পেসমেকার বসেছিল কিছুদিন আগেই।
শ্যামল ঘোষ ১৯৬৯ সালে খিদিরপুর ক্লাবে যোগ দেন। তারপরে দুই বছর মোহনবাগানে খেলেন। ১৯৭৪ সালে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে লাল হলুদের অধিনায়ক হয়েছিলেন। তাঁর যাবতীয় সাফল্য লাল হলুদ জার্সি গায়ে। শ্যামল ঘোষ মানেi ইস্টবেঙ্গলের অনেকটা অংশ। তিনি থাকতেন কসবা পোস্ট অফিস অঞ্চলে। ভারতীয় দলের হয়ে মারদেকা ফুটবল ও এশিয়ান কাপেও খেলেছিলেন। ফুটবলার হিসেবে যতটা বড় ছিলেন, ততটাই ছিলেন কোচ হিসেবেও। তাঁর সময়ে ইস্টবেঙ্গল লিগ, শিল্ড জিতেছিল। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সত্তরের স্বর্ণযুগের এক নক্ষত্র শ্যামল ঘোষ। কৃতিত্বের সাথে স্টপার পজিশনে খেলেছিলেন ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত, অধিনায়ক ছিলেন ১৯৭৭ সালে I ১৯৯৩ সালে সামলে ছিলেন ক্লাবের প্রশিক্ষকের দায়িত্বও। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাঁকে ২০১৬ সালে জীবনকৃতী সম্মানে সম্মানিত করে ।
বাইচুং ভুটিয়ার প্রথম কোচ ছিলেন শ্যামল। ১৯৯৩ সালে কলকাতা ময়দানে বাইচুং যেবার লাল হলুদে যোগ দিলেন, সেইসময় তিনি কোচ ছিলেন। বাইচুংয়ের গোল স্কোরিং দক্ষতা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। তাই সবসময় বাইচুংকে সামনে থেকে খেলাতেন। শ্যামল ঘোষ তারপর কোচিংয়ের মূলস্রোতে আসেননি। তিনি বরং খুদে ফুটবলারদের কোচিং করাতেন কসবা হালতুর মাঠে। এমনকি ময়দানেও তেমন যেতেন না। একবার বলেছিলেন, আমি এই সময় একেবারেই অচল। আমি বলিয়ে কইয়ে নই বলে তেমন কল্কেও পেলাম না। একেবারে অজাতশত্রু মানুষ ছিলেন তিনি। নামী প্রাক্তন তারকা হয়েও অহংবোধ ছিল না। একেবারে মাটিতে পা রেখে চলতেন। সমাজসেবামূলক কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখতেন।
